আগামী শিক্ষাবর্ষে ৩২ কোটি বিনামূল্যের বই ছাপাবে সরকার, লাগবে ৮০ হাজার টন কাগজ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ রাত
  • ১৪৩৯৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৩২ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বিপুল পরিমাণ বই মুদ্রণে প্রয়োজন হবে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাগজ। নির্ধারিত দামে এবং সময়মতো কাগজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হবে, যাতে কাগজ সরবরাহে কোনো ধরনের জটিলতা বা চুক্তিভঙ্গের ঘটনা না ঘটে।

তিনি জানান, বৈঠকে পেপার মিল মালিকরা সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন যে, কাগজের দাম না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাগজ সরবরাহ করবেন। ফলে সময়মতো বই ছাপা ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রেস মালিক ও পেপার মিল মালিকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এবার শুরু থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ায় সেই জটিলতা অনেকটাই কাটবে বলে তিনি আশা করেন।

এ সময় শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর মাধ্যমে প্রায় ৩২ কোটি বই মুদ্রণ করা হবে। এ জন্য টেন্ডার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং প্রেস মালিকরা এতে অংশ নিচ্ছেন। কাগজ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পেপার মিল মালিকরা প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কাগজ সরবরাহ করতে সক্ষম বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বই মুদ্রণের প্রধান অংশীদার প্রেস মালিক ও পেপার মিল মালিকদের সমন্বয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এনসিটিবি এ কার্যক্রম সমন্বয় করবে।

শিক্ষা সচিব জানান, পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠক এই প্রথম অনুষ্ঠিত হলো। আগামী মঙ্গলবার প্রেস মালিকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজারদর অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজ যথাসময়ে সরবরাহে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এনসিটিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে কাজ করা হবে, যাতে আগের বছরের মতো কোনো সংকট বা বিলম্ব না ঘটে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad