গোপনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সহায়তা দিচ্ছে ইরান? রয়টার্সের প্রতিবেদনে নতুন দাবি

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ সকাল
  • ৫৫৫৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সদস্য, সামরিক উপদেষ্টা, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন–সংক্রান্ত সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইরান—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। গত ১৩ জুলাই তেহরান থেকে ‘মাহান এয়ার’-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে এসব সামরিক সরঞ্জাম ও আইআরজিসি সদস্যরা ইয়েমেনে পৌঁছান বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি পৃথক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এসব সূত্রের মধ্যে রয়েছেন দুজন ইরানি কর্মকর্তা, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য রুটে হুতিদের প্রভাব ও চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ ফ্লাইটে কী ছিল?

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বিশেষ ওই উড়োজাহাজে ১০ থেকে ২১ জন আইআরজিসি সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারও ছিলেন। ফ্লাইটটির মূল গন্তব্য ছিল হুতিনিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা। তবে সৌদি–সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় সানা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমানটি পরে হুতিনিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে অবতরণ করে।

একটি সূত্রের দাবি, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং হুতিদের সামরিক অভিযানে সহায়তা করাই এসব আইআরজিসি সদস্যের মূল দায়িত্ব ছিল। একই সঙ্গে হুতিদের কার্যক্রমে অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ফ্লাইটটিতে স্বর্ণও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার ইরান ও হুতিদের

এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুতিদের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অন্যদিকে, ওই ফ্লাইটের যাত্রী এবং হুতিদের সংবাদমাধ্যম–বিষয়ক কর্মকর্তা আবদেল রহমান আল-আহনোমি অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বিমানটিতে কেবল বেসামরিক যাত্রীরাই ছিলেন। হুতিরাও বরাবরের মতো নিজেদের ইরানের ‘প্রক্সি’ বাহিনী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, তারা নিজস্ব সক্ষমতায় অস্ত্র তৈরি করে।

এদিকে ইয়েমেনের সৌদি–সমর্থিত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আইআরজিসির সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে পৌঁছেছে। এর উদ্দেশ্য হুতিদের সামরিক শক্তি বাড়ানো এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌনিরাপত্তার জন্য নতুন সংকট তৈরি করা।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুজাহেম আলসালুমের দাবি, ফ্লাইটটিতে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ছিল, যা অতীতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

রয়টার্সের তথ্যমতে, ফ্লাইটটি ইয়েমেনে পৌঁছানোর তিন দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান হুতিদের লোহিত সাগরের তেল পরিবহন পথ বন্ধের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানায়। এরপর হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরে সৌদি–সমর্থিত বাহিনীর হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া গত বৃহস্পতিবার হুতিরা দাবি করে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনার ফলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা সানা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে ইয়েমেনের ওপর আরোপিত সৌদি অবরোধের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

তবে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ১৩ জুলাইয়ের ওই ফ্লাইটের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া হুতি প্রতিনিধিদল এবং তেহরানে চিকিৎসা নেওয়া ইয়েমেনি নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad