বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে রাখার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে একটি মেধাভিত্তিক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া ও নিবন্ধন সনদ দেওয়ার পাশাপাশি যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে আসছিল। এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হয়েছিল।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা নিয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় বিদ্যমান পদ্ধতি বাতিল করে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি বাতিল করে আগের মতো এনটিআরসিএর হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের মধ্যে দলীয়করণের একটি ক্ষতিকর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এখন স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে তুলে দিলে অনিয়ম, অর্থ লেনদেন, রাজনৈতিক সুপারিশ ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হবে।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ইতিবাচক সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও শিক্ষামন্ত্রী ভালো নিয়ম-নীতি পরিবর্তন করে পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগের যে ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, গত ২১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষামন্ত্রীর সদিচ্ছা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি লাখ লাখ বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। তাই সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এনটিআরসিএর অধীনে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা বহাল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক