প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে নেপ মিলনায়তনে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা, ময়মনসিংহ বিভাগ আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার পরিবর্তনে যে স্বপ্ন ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, বৃহত্তর কমিউনিটিকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষাঙ্গনে কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, এর আগে সিলেট বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাকি ছয়টি বিভাগেও পর্যায়ক্রমে এসব কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, ক্রীড়া শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন—কোনো শিশু যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগসহ বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ভবন নির্মাণ নয়; প্রতিটি বিদ্যালয়কে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের উপযোগী আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে প্রতিটি এলাকার ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রাও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এসব পরিবর্তন বিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার আগামী কারিকুলামে ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে স্পিকিং টেস্ট চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ইউনিক আইডি থাকবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে পৃথক ওয়াশ ব্লকের পরিবর্তে স্কুল ভবনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, এ কার্যক্রমে যেসব ভুল-ত্রুটি হচ্ছে, তার তুলনায় এ নিয়ে অপপ্রচারই বেশি হচ্ছে। তবে সরকার প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানে কাজ করছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটলেও মসজিদে সাধারণত এমন ঘটনা দেখা যায় না। এর অন্যতম কারণ মানুষ মসজিদকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে, কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনে করেন না। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সবার নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপপরিচালকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনসের পরিচালকসহ ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার পিটিআই সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক