পদ্মার চরে বাদামের বাম্পার ফলন, লাভের আশায় উজ্জীবিত লালপুরের কৃষক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৬ বিকাল
  • ৩৭৪৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীর জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে চিনাবাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। কম উৎপাদন খরচ, অনুকূল আবহাওয়া এবং বাজারে ভালো দামের কারণে কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। চরাঞ্চলের বালুময় জমিতে বাদাম চাষ করে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় অন্যরাও এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কৃষক রবি জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষে বীজ, রোপণ ও ফসল উত্তোলনসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রির আশা করছেন তিনি।

একই এলাকার কৃষক আব্বাস বলেন, চরাঞ্চলের বালুচরে অন্যান্য ফসলের তুলনায় চিনাবাদামের ফলন অনেক ভালো হয়। এ ফসলে সেচ, সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন তুলনামূলক কম। তাছাড়া পাইকাররা সরাসরি জমি থেকে বাদাম কিনে নেওয়ায় পরিবহন ব্যয়ও নেই। প্রতি বিঘায় তিনি ১৩ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন বলে জানান।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় ফলন আশানুরূপ হয়েছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে এবং লাভের পরিমাণ বেড়েছে।

বর্তমানে চরাঞ্চলজুড়ে বাদাম উত্তোলনের ব্যস্ততা চলছে। বাদাম তোলা, ঝাড়াই ও শুকানোর কাজে কৃষক-কৃষাণীরা দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন। পদ্মার চরজুড়ে এখন যেন বাদাম উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী, লালপুর সদর ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের পাঁচটি কৃষি ব্লকের আওতাধীন প্রায় ৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে ৪৬৫ হেক্টর জমিতে বারি চিনাবাদাম-৮ ও ৯, ঢাকা চিনাবাদাম-১ এবং বিনা চিনাবাদাম-৮ জাতের আবাদ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।

সরেজমিনে তিলোকপুর, নিমতলী, গৌরীপুর, চর জাজিরা, মোহরকয়া, বিলমাড়ীয়া ও নওশারা চর এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বালুচরজুড়ে সবুজ বাদামের ক্ষেত। এসব এলাকায় ব্যাপক আকারে চিনাবাদাম চাষ করছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের চিনাবাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত ফলন হওয়ায় আগামী বছর এ অঞ্চলে চিনাবাদামের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad